পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্র দ্রোহিতার শামিল- মান্না

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এই সরকার দেশের গণতন্ত্রকে হত্যার সঙ্গে সঙ্গে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি— শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শুক্রবার নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
মান্না বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের এই অথর্ব পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকায় গিয়ে অনুরোধ করেছে তারা যেন বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে। আর এখন প্রকাশ্যে জানাল যে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ভারতের কাছে অনুরোধ করেছে। তার মানে কি এই সরকারের কোনো বন্ধু নেই, তারা দেশকে বিশ্ব রাজনীতিতে বন্ধুহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে?
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় স্পষ্ট যে সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করছে। এভাবে যদি তারা কেউ আমেরিকা, কেউ চীন, কেউ ভারত কিংবা রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে থাকে, তাহলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতভাবেই হুমকির মুখে পড়বে।
গণতন্ত্র মঞ্চের এই শীর্ষ নেতা বলেন, স্বৈরাচার সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অন্য দেশের সঙ্গে দেনদরবার করলেও জনগণের কাছে আসে না। তারা যে জনগণের রায়ের তোয়াক্কা করে না, এই বক্তব্যে আবারও তা স্পষ্ট করল। সাহস থাকলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় থাকতে জনগণের সামনে আসেন। কারো হাতে পায়ে ধরে আর টিকতে পারবেন না। কোনো দেশেই আপনাদের ঠাঁই হবে না।
ডাকসুর দুইবারের এই সাবেক ভিপি বলেন, এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এই দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমাদের সবার পরিচয় এক। আমরা বাংলাদেশি। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, গারো, সাওতাল, চাকমা, মারমাসহ সকল গোত্র, ধর্ম, বর্ণের মানুষ মিলেই আমাদের বাংলাদেশ।
সরকারকে হুশিয়ার করে মান্না বলেন, কোনো উস্কানি দিয়ে এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে দেশের সকল জনগণ ঐক্যবদ্ধ ভাবে আপনাদের প্রতিহত করবে।।

