গাজীপুরের কালীগঞ্জে জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হাসপাতালের পরিচালক বন্যা বেগমসহ (৩১) ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর বিচারক রাগীব নূর আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে তাদের দুদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বড়নগর রোড বালীগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-১।

বুধবার রাতে গ্রেফতারকৃত সব আসামিকে থানায় হস্থান্তর করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে নিহতের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

আসামিরা হলেন- হাসপাতালের পরিচালক বন্যা আক্তার (৩১), মো. আশিকুর রহমান (২৫), সংগীতা তেরেজা কস্তা (৩৩), মেরী গোমেজ (৪০), সীমা আক্তার (৩৪) ও শামীমা আক্তার (৩২)।

কালীগঞ্জ থানার এসআই মশিউর রহমান খান বলেন, ভিকটিমের চিকিৎসা সংক্রান্ত ও হাসপাতাল পরিচালনার মেয়াদোত্তীর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী বিচার কাজ চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার গাজীপুরের কালীগঞ্জে জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় শিরিন বেগম (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। ওই রোগীর ‘এবি’ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন থাকলেও তাকে পুশ করা হয় ‘বি’ পজিটিভ রক্ত।

নিহত প্রসূতি শিরিন বেগম উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চুয়ারিয়াখোলা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। তিনি সদ্য নবজাতক ছাড়াও ১০ বছরের দুটি যমজ ছেলেসন্তানের মা ছিলেন।

পরে মঙ্গলবার গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি ডা. সানজিদা পারভীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে।।

Share this news as a Photo Card

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ