কক্সবাজার (রামু) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে কথিত জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারের দোকান দখল, সরকারি নদী ও সড়ক দখল করে অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা এবং কৃষকদের পানি সংকটে ফেলে আর্থিক শোষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়ার বাসিন্দা লেদু বড়ুয়া ও তার ছেলে কলসি বড়ুয়ার মালিকানাধীন তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি দোকানঘর প্রায় তিন বছর আগে সুকৌশলে দখলে নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানঘরটি বর্তমানে কথিত জামায়াত নেতা রোকন উদ্দিন রোক্যা ও দেলোয়ার হোসেন দেল্যার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন গোপনে দোকানঘরটি দখলে রাখার পর গত আগস্ট মাসের পর সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার ও দাড়িপাল্লা প্রতীক টানিয়ে সেটিকে গ্রামভিত্তিক দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সংখ্যালঘু পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, উক্ত দোকান দখলের ঘটনায় প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন রোকন উদ্দিন রোক্যা ও দেলোয়ার হোসেন দেল্যা। পাশাপাশি নেপথ্যে থেকে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের কথিত জামায়াত ইসলামের সক্রিয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু সুবিধা ভোগি নেতা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই গোষ্ঠীটি একই সঙ্গে এলাকার সরকারি তালিকাভুক্ত নদী ও সরকারি সড়কের অংশবিশেষ দখল করে রেখেছে। সরকারি সড়কের দুই পাশে গাছ লাগিয়ে বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে সড়ক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার একমাত্র পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থাকে কৌশলে বাণিজ্যে পরিণত করা হয়েছে। নদীর পানি চড়া দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত দাম দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গরিব কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এছাড়া সরকারি রাস্তা দখল করে কলা বাগান গড়ে তোলা, সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল, অবৈধ মাটি কাটার বাণিজ্য পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যার তথ্যপ্রমাণ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, সময়মতো এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share this news as a Photo Card

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ