দুই কিশোরী অপহরণ সন্দেহের চোখে রয়তুন পরিবার।

মো.মাইনুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
গত ৫ অক্টোবর সাভার বিরুলিয়া থেকে অপহরণ কৃত দুই কিশোরীর মধ্যে রয়তুনকে উদ্ধার করেন সাভার মডেল থানা পুলিশ। কিন্তু অপহরণের পাঁচ দিন পরে তিন জনকে আসামী করে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণের মামলা দায়ের করেন অপহরণ কৃত টুনির বাবা রমজান আলী।
টুনির অপহরণ ঘটনায় নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে,ঘটনার রহস্য জটিল রুপ ধারন করেছে। দিন যতই বাড়ছে ততই টুনির পরিবারের হতাশা বাড়ছে তবে উদ্ধার কৃত রয়তুনের পরিবারের দিকে সন্দেহের দৃষ্টি বাড়ছে। ইতিমধ্যে রয়তুনের পরিবারের সকলেই কাউকে কিছু না বলে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় চলে যায়। তাতে করে সন্দেহের দৃষ্টি পুরোটাই থেকে যায় রয়তুনের পরিবারের উপর। এই পালিয়ে যাওয়ার পিছনে অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে যা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মূলকারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম কারণ হলোঃ টুনি একজন সহজ সরল গ্রামের হতদরিদ্র দিন মজুরের মেয়ে। সে কখনো ঢাকার শহরে আসেনি এবং তার ইচ্ছাও ছিলোনা। টুনির বড় বোনের স্বামী অর্থাৎ টুনির দুলাভাই ইউসুফ টুনিকে তার মা-বাবার কাছ থেকে প্রলোভন দেখিয়ে ভুলভাল বুঝিয়ে ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় বউ বাজার আব্দুল মান্নানের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় হেলপার চাকুরী নিয়ে দেয়। দুই মাস কাজ করার পর হঠাৎ চলতি মাসের ৫ তারিখে রয়তুন ও টুনিকে রাত ৯টার দিকে একই কারখানার চার-পাঁচ ছেলে মিলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিভিন্ন তথ্যের সূত্রে জানা যায়, রয়তুন উদ্ধারের সময় মহাজিদ নামক ২নং আসামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী থেকে।অপর দুই আসামী ১ও ৩নং এখনো পলাতক। টুনির বাবা রমজান আলী কান্না স্বরে বলেনঃ আমার মেজো জামাই ইউসুফ আমাকে বলেন আব্বা আমি অনেক টাকা ঋন হয়ে গেছি আমার এই ঋনের টাকা পরিশোধ করতে পারছিনা। টুনিকে আমার সাথে দেন ঢাকায় নিয়ে চাকুরী করাবো।এই কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসলে টুনিকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ নিয়ে দেয়। কাজের সুবাদে টুনি বোন দুলাভাইয়ের কাছেই থাকতো দুই মাস যাবত কাজ করতেই অনেকের সাথেই পরিচয় হয়,ওদিকে রয়তুন অনেক দিন যাবত একই কারখানায় কাজ করে তবে টুনির চেয়ে রয়তুন একটু বেশি চঞ্চল এবং চতুর। আশপাশের মানুষের তথ্যের ভিত্তিতে রয়তুন সুবিধা জনক মেয়ে না। রয়তুনের বহু ছেলে বন্ধু ছিল। একই কারখানার মহাজিদের সাথে রয়তুন ও টুনি কাজ করতো মহাজিদের সাথে দীর্ঘদিনের রয়তুনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল,ঘটনার দুইদিন আগে মহাজিদ,নুরনবী ও বিপ্লবদের মেস বাসায় রয়তুন ও টুনিকে ইউসুফের খালাতো বোন পারভীন (পারভীন রয়তুনের খালা)দাওয়াত দিয়ে খাওয়ায়। ওদের সাথে হাবিব নামের একজন বন্ধুও ছিল। এসব ঘটনা রয়তুনের মা জানতো কিন্তু তার মা কাউকে কিছু বলেননি। এমনকি রয়তুনের মা,খালা পারভীন,মৌ নামের দুঃসম্পর্কের খালা সহ টুনির দুলাভাই ইউসুফ মোটকথা রয়তুনের পুরো পরিবারই জানতো এই ছেলেদের সাথে রয়তুনের আগে থেকেই সুন্দর একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সম্পর্ক ছিল একাধিক ছেলের সাথে। টুনির দুলাভাই ইউসুফ রয়তুনের মামা,টুনি রয়তুন একে অপরের আত্মীয়। পুরো ঘটনা সম্পর্কে রয়তুনের পরিবারের সকলেই অবগত ছিল। রয়তুনের পূর্ব-পরিকল্পনা ছিল এবং টুনিকে রয়তুন ফুসলিয়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। টুনির মা কান্না স্বরে বলেনঃ আমার মেয়ে কখনো করো সাথে যেতে চায়নি আমার মেয়েকে ঘর থেকে রয়তুনই নিয়ে যায়। যেদিন টুনিকে নিয়ে যায় টুনি ওদিন রাত আটটার সময় কাজ থেকে আসে। এসে বলেন আমাদের কারখানায় নাইট ডিউটি হবে টুনিকে আমি খাবার দেই খাবার অর্ধেক শেষ না হতেই রয়তুন এসে তড়িগড়ি করে ডেকে নিয়ে যায় আমার মেয়ে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। রয়তুনের খালা পারভীন আমার মেয়ে টুনিকে সবসময় আড়ালে ফিসফিস করতো আমার টুনি কোথায় আছে তারা সবাই জানে। রয়তুন উদ্ধারের পর তার মামা ইউসুফ তার কাছে জানতে চাইলে সে বলে আমরা টুনিকে নাগেশ্বরী থেকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দিয়েছি। আর মহাজিদের সাথেই ছিলাম পুলিশ আমাদের ধরে এনেছেন। আমরা যখন টুনিকে গাড়িতে তুলে দিতে বাস কাউন্টারে বসিয়ে রেখে বাড়িতে চলে আসছি ঠিক তখনই মহাজিদের কাছে হাবিব ফোন করেন হাবিব বলে টুনি কোথায় মহাজিদ বলে টুনিকে আমরা নাগশ্বরীতে ঢাকার বাস কাউন্টারে রেখে আসছি ঢাকা যাবে। তারপর ফোন কেটে দিয়ে হাবিব টুনির খোঁজে যায়। তারপর থেকে হাবিবের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। হাবিব,মহাজিদ,বিপ্লব,নুরনবী তাদের সকলের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায়। হাবিব সাভার বিরুলিয়ায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতা। রয়তুন ও মহাজিদ বলেন টুনি হাবিবের সাথে গেছে। আর রয়তুন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দেন। মোটকথা রয়তুন ও মহাজিদকে ঠিকঠাক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ও বাকী আসামীদের গ্রেপ্তার করলেই টুনির রহস্য উদঘাটন হবে।টুনি প্রেমের টানে যায়নি রয়তুনের চালে পড়ে গেছে। টুনিকে রেখেছে টুনির কি হয়েছে একমাত্র মহাজিদ রয়তুনই বলতে পারবে। যদি সে নাই জানত তবে পুরো পরিবারসহ রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতেনা। টুনির বাবা-মা বলেন,আমার মেয়ের স্বামী ইউসুফের চলাফেরা সন্দেহ জনক রয়তুনের কথা বললেই আমাদের সাথে অস্বাভাবিক অচরন করেন। রয়তুনের মামা ইউসুফ, খালা পারভীন,মৌ রয়তুনের মা পুরো পরিবার আগে থেকে সবকিছুই জানতো।ওরাই অমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র মুলকভাবে সরিয়ে রেখেছেন। আজ ১৮ দিন যাবত আমার মেয়ে নিখোঁজ এপর্যন্ত কোন খোঁজ খবর পেলামনা। বেচে আছে নাকি পাচার করে দিয়েছে কোন কিছুই জানিনা। পুলিশের কাছে গেলে বলে বাবারে আমরাতো চেষ্টা করছি আপনার মেয়েকে উদ্ধার করতে। টুনির পরিবার পুরোটাই হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন । টুনির বাবা-মায়ের একটাই চাওয়া আমার মেয়েকে ফিরে চাই।
এ ব্যপারে সাভার মডেল থানার এসআই দিদারুল ইসলাম বলেনঃ আমরা কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী থেকে একজন আসামী মহাজিদকে গ্রেপ্তার ও রয়তুনকে উদ্ধার করেছি এবং বাকী আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করা ও টুনিকে উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন ভাবে অভিযান তৎপরতা অব্যহত আছে।

